• Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

শিশুর হার্নিয়ার চিকিৎসা

ডা. ছরওয়ার আলম
প্রকাশ : এপ্রিল ২৩, ২০১৯ | সময় : ১:২৯ অপরাহ্ণ

মোবাশ্বের ইসলাম। দাগনভূঁঞা, ফেনী থেকে ৪ বছর বয়সের এই শিশু সন্তানকে নিয়ে তার মা বাবা দুইজনই আসলেন
হার্নিয়া রোগের চিকিৎসার জন্য। তারা জানান, তাদের এ শিশু সন্তানের ছোটকাল থেকেই হার্নিয়ার সমস্যা আছে। এর জন্য শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া হয়েছে। তারা বলেছেন, এই রোগের অপারেশনই একমাত্র চিকিৎসা। এই শিশু সন্তানের অপারেশন! না জানি কোন অসুবিধা হয় এই ভয়ে তারা অপারেশন করাত রাজি হলেন না, এভাবে প্রায় ৪ বছর কেটে গেল। শিশুর হার্নিয়ার কারণে বাম অন্ডথলিতে সামান্য ফোলা ছাড়া বড় কোন অসুবিধা এতদিন দেখা দেয়নাই। শুধু শিশু লাফালাফি করলে বাম অন্ডথলিতে সামান্য ফোলা দেখা দিত। শুইলে বা ঘুমালে এবং লাফালাফি না করলে এই ফোলা এমনিতেই চলে যেত। কিন্তু গত ৩ মাস ধরে হঠাৎ করে এই ফোলা বেড়ে যায়।

এখন প্রায় সব সময় ফোলা থাকে। মাঝে মাঝে ব্যথা করে, এটা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যতবার চিকিৎসকের নিকট যাই, সবাই অপারেশনের কথা বলে। কিন্তু আমরা এই শিশু সন্তানের অপারেশনের সাহস পাচ্ছিনা। তারা জানান, তাদের পরিচিত এক এলোপ্যাথিক চিকিৎসক থেকে ঠিকানা নিয়ে আমাদের নিকট এসেছেন। আমরা তাদের সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলাম। তারপর বললাম হার্নিয়া মূলত সার্জিক্যাল বা অপারেশনযোগ্য রোগ। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ছোট শিশুদের যারা হামাগুড়ি দিয়ে চলে সাধারণত তাদের ক্ষেত্রে ভাল ফল পাওয়া যায়। যারা বেশি লাফালাফি করে এবং বয়স্ক ব্যক্তি যারা ভারী কাজ করেন, যাদের পায়খানা কষা থাকে, যারা প্রায়শই কাশিতে ভোগেন তাদের ক্ষেত্রে কম রেজাল্ট হয়। তাই আমরা আপনাদের ছেলেকেও অপারেশনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি।

এছাড়া হার্নিয়ার অপারেশন বেশি জটিল নয়। আমাদের পরামর্শ শুনে তাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। অনেকক্ষণ নিশ্চুপ থেকে বললেন, আপনি চিকিৎসা দিয়ে দেখেন। ভাল না হলে আমরা অপারেশনের দিকে আগাবো। আপনি কিছুদিন চিকিৎসা দিয়ে দেখেন আমাদের বিশ্বাস আল্লাহর রহমতে হয়তো ভালওতো হয়ে যেতে পারে। তাদের অনুরোধে মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে আমরা রোগীলিপি (রোগ বিবরণী) নিতে রাজি হলাম।

দীর্ঘ সময় ধরে রোগীলিপি নিয়ে আমরা উক্ত শিশুরোগীর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ যে লক্ষণাবলী পেলাম তা হলঃ ছোট শিশুর বাম ইনগুইনাল হার্নিয়। হার্নিয়া জন্মগত। হার্নিয়া পূর্বে বড়ছোট হতো এখন প্রায়ই বড় থাকে ছোট হয়না। মাঝে মাঝে ব্যথা করে। বংশে কারো হার্নিয়া নাই। আবহাওয়া স্বাভাবিক সহ্য হয়। ঘুম কম। ঘুমানোর সময় ও ঘুমের পর জেগে উঠে অনেকক্ষণ বিরক্ত করে, কান্নাকাটি করে।
পায়খানা কষা, প্রতিদিন হয়না, দুই তিন দিন পর পর পায়খানা হয়। পায়খানার পুর্বে পেট ব্যথার কথা বলে। মাঝে মাঝে পায়খানা করতে গিয়ে ফিরে আসে, হবে হবে ভাব থাকে কিন্তু পায়খানা হয়না। মাঝে মাঝে বিছানায় প্রস্রাব করে।দিনে সর্দ্দি থাকে রাত্রে নাক শুকনো থাকে।

রোগী হালকা পাতলা গঠনের। অস্থির ও উগ্র স্বভাবের। অতি সাধারণ কারণে বড়দের গায়ে হাতে তোলে। সামান্য বিষয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে চেঁচামেচি করে, কান্নাকাটি করে। সামান্য ব্যাপারে প্রচন্ডভাবে ক্ষিপ্ত হয়। মতের অমিল হলে প্রচন্ডভাবে আক্রমণ করে। হিংসা আছে বুঝা যায়। স্বার্থপরতাও আছে।

খাবারের মধ্যে ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত, মসল্লাযুক্ত খাবার বেশি পছন্দ। জিহ্বার সামনের দিক পরিষ্কার শেষের দিক ময়লা। সকাল বেলায় বেশি বিরক্ত করে।

আমরা এই শিশু রোগীর হার্নিয়ার ক্ষেত্রে উপরোক্ত লক্ষণাবলী মূল্যায়ন করে তার ক্ষেত্রে ঔষধ নির্বাচন করলাম “নাক্স ভমিকা”। উক্ত ঔষধ সেবনে মহান আল্লাহর রহমতে তার অপারেশনযোগ্য রোগ অতি অল্প সময়ে বিনা কষ্টে আরোগ্য হয়। এই শিশু সন্তানের রোগ বিনা অপারেশনে আরোগ্য হওয়াতে তাদের পরিবারের সবাই সৃষ্টিকর্তার নিকট কৃতজ্ঞ।
লেখকঃ সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক পরিষদ, ফেনী জেলা।

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!