• Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

আপনার চেয়ারটা কি স্বাস্থ্যসম্মত

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ : এপ্রিল ৪, ২০১৯ | সময় : ৭:০৬ অপরাহ্ণ

কম্পিউটারের সামনে বসলেই হলো। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে সময় চলে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। যাঁরা পড়ালেখা করছেন দীর্ঘসময়, তাঁদেরও কাটাতে হয় চেয়ারে বসেই। তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে ডিজাইন, পরিকল্পনা পর্যন্ত সব হচ্ছে এক জায়গায় বসেই। আগে হয়তো প্রয়োজনীয় ফাইলপত্র নিজের অফিসের একটা ক্যাবিনেট থেকে বের করে নিতে হতো, এখন কম্পিউটারে জমা সেই ফাইলের সফট কপি বেরিয়ে আসে একটা ক্লিকেই। তাই কাজের ফাঁকে চেয়ার ছেড়ে ওঠা হয় কম। এক জায়গায় বসে থেকে কাজ করার সুবিধা অনেক, তবে একটানা বসে কাজ করতে করতে পিঠ বা কোমরব্যথার বিপাকেও পড়ছেন অনেকে। মূলত ভুল ভঙ্গিতে বসার কারণেই এসব সমস্যা হয়ে থাকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান শামসুন নাহার জানালেন, কাজের সময় আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসা উচিত। যাঁরা দীর্ঘসময় বসে কাজ করেন, তাঁদের ঘাড় ও কোমরব্যথার আশঙ্কা বেশি। তাই এমন চেয়ারে বসে কাজ করতে হবে, যেটি আমাদের মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতা অনুসরণ করে বানানো হয়েছে।

আমাদের কোমরের ওপরের অংশটা স্বাভাবিকভাবেই একটু সামনের দিকে বেঁকে থাকে। সোজা চেয়ারগুলোতে বসলে এই অংশ নিয়েই বাধে বিপত্তি, কারণ চেয়ারে পিঠ ঠেকিয়ে বসতে গেলে এই অংশের সঙ্গে চেয়ারের কোনো সংযোগ থাকে না। এভাবে দীর্ঘসময় বসে থাকলে কোমরব্যথা হতে পারে। পিঠ ও কোমরে ব্যথা এড়াতে জেনে নিন অধ্যাপক শামসুন নাহারের পরামর্শ—

বসবেন যেভাবে
চেয়ারে সোজাভাবে বসুন। ঘাড় বা পিঠ বাঁকিয়ে বসবেন না। পিঠের নিচের অংশ ও চেয়ারের মধ্যে কোনো ফাঁকা রেখে বসা যাবে না। কম্পিউটার বা খাতা-কলমের কাজ যেটিই করুন না কেন, কাজের জিনিসগুলো রাখতে হবে সুবিধাজনক দূরত্বে। চেয়ার ও টেবিলের মধ্যে খুব বেশি দূরত্ব রাখা যাবে না। হাত ঝুলিয়ে কাজ করবেন না। লেখার সময় এবং কি-বোর্ড বা মাউসের কাজ করার সময় হাতের আঙুল থেকে কনুই পর্যন্ত পুরো অংশটাই যেন টেবিলের ওপর থাকে। পা দুটি আরামদায়কভাবে মেঝেতে রাখুন। ঊরু থাকবে মেঝের সমান্তরাল। শরীরের কোনো অংশই দোদুল্যমান বা আনসাপোর্টেড অবস্থায় রাখা যাবে না। সঠিক সমর্থন (সাপোর্ট) দিয়ে রেখে কাজ করতে হবে। সঠিক ভঙ্গিতে বসলে পিঠ বা কোমরে যেমন ব্যথা হবে না, তেমনি ঘাড়ব্যথা থেকেও মুক্ত থাকবেন।

অধ্যাপক শামসুন নাহার জানালেন, মিনিট বিশেক একটানা কাজ করার পর অন্তত এক মিনিটের জন্য হলেও অঙ্গভঙ্গি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। অঙ্গভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য উঠে দাঁড়াতে পারেন। ২০ মিনিট পরপর বিরতি দেওয়া সম্ভব না হলেও আধা ঘণ্টা পরপর অবশ্যই বিরতি দিন। আধা ঘণ্টার বেশি সময় একটানা বসে কাজ করা যাবে না।

যেমন চেয়ার চাই
নিজের দেহের গঠন অনুযায়ী চেয়ার বানিয়ে নিতে পারলে সবচেয়ে ভালো। সেটি সম্ভব না হলে এমন চেয়ার কিনুন, যেটির পেছনটা মেরুদণ্ডের মতোই বক্র। চেয়ারের উচ্চতা দেখে নিন, যাতে আপনার পা ঝুলে না থাকে; আবার কষ্টদায়ক ভঙ্গিতে পা ভাঁজ করে রাখতেও না হয়। রিভলভিং চেয়ারে না বসাই ভালো।

বিকল্প আছে কী?
চেয়ার কেনা কিংবা বানানো কোনোটারই সুযোগ না থাকলে ছোট কুশন ব্যবহার করতে পারেন। পিঠের নিচের অংশ ও চেয়ারের মধ্যের ফাঁকা অংশটাতে কুশন রেখে সঠিক ভঙ্গিতে বসে কাজ করতে পারেন।
অনেকে চেয়ারে বাড়তি ব্যাক রেস্ট (একটু বাঁকানো) লাগিয়ে নেন। এটি অবশ্য তেমন কার্যকর নয়। আবার পিঠব্যথায় কখনো কখনো একটু কাজে লাগলেও এটির ব্যবহারে ঘাড়ে ব্যথার ঝুঁকি বাড়ে।

গাড়িতে চড়লে
যাঁরা লম্বা সময় গাড়ি চালান, তাঁরাও একই নিয়মে কুশন ব্যবহার করতে পারেন। দেড়-দুই ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পর ৫ মিনিট বিরতি দিন। এই ৫ মিনিটে একটু ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম করে নিন। এমনকি যাঁরা দীর্ঘসময় গাড়িতে যাত্রী হিসেবে বসে থাকেন, তাঁদেরও এই নিয়মগুলো মেনে চলা প্রয়োজন।
সম্পাদনা: আরএইচ/এনজেটি

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!