• Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

দেশে দেশে নববর্ষ উৎসব

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ : জানুয়ারি ১, ২০১৯ | সময় : ৩:৪৪ অপরাহ্ণ

একটি বছর চলে যায়। আসে আরেকটি নতুন বছর। কালে কালে আমরা সে দিনটিকে পালন করতে শুরু করেছি। নববর্ষ পালনের ক্ষেত্রে একেক দেশ একেক রীতি পালন করে থাকে। নতুন বছরের প্রথম দিন পালনে অনেক দেশে আজব কিছু রীতিও রয়েছে।

যে সব দেশে গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হয়, তারা সাধারণত ১ জানুয়ারিতে নববর্ষ পালন করে। এ দিন অতীতের দুঃখ-গ্লানি ধুয়ে-মুছে নতুনভাবে জীবন শুরু করার স্বপ্ন রচনা করেন সবাই। সেই প্রাণাবেগই যেন ধরা পড়ে নববর্ষ পালনের বহুমাত্রিক আয়োজনে।

আসুন জেনে নেই বিভিন্ন দেশের বিচিত্র বর্ষবরণের ইতিহাস-

গ্রেগোরিয়ান নববর্ষ
রোমান ক্যালেন্ডারে নতুন বছর শুরু হতো ১ মার্চ থেকে। ল্যাটিন ভাষায় সেপ্টেম্বরের অর্থ সাত, অক্টোবর আট, নভেম্বর নয় এবং ডিসেম্বর দশ। সে সময় রোমান সরকারের নতুন অধিবেশন শুরু হতো জানুয়ারি মাস থেকে। জুলিয়াস সিজার খ্রিষ্টপূর্ব ৪৭ সালে এ ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন করে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের সৃষ্টি করেন। এতে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৪ সালে মার্ক অ্যান্টোনির কনসুল এক দফা পরিবর্তন করার পর খ্রিষ্টপূর্ব ৮ সালে এম্পরর অপাসটাস সিজার আরেক দফা পরিবর্তন করেন। সর্বশেষ পোপ ১৩তম গ্রেগোরি ১৫৮২ সালে এই ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন করে বর্তমান কাঠামোতে নিয়ে আসেন। এই পরিবর্তিত ক্যালেন্ডারে নতুন বর্ষের শুরু হয় ১ জানুয়ারি। জানুয়ারি মাসের প্রথম দিনটি মধ্যযুগে ধর্মীয় দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যে নতুন বছরে মধ্যরাতের পর যে পুরুষ প্রথম বাড়িতে পা দেয়, বলা হয় সে বাড়িতে সৌভাগ্য নিয়ে আসে। এ সময় পুরুষরা নিজেদের বাড়িতে টাকা, রুটি, কয়লা এবং অন্যান্য সামগ্রী উপহার হিসেবে নিয়ে আসে, যাতে সারা বছর পরিবারের সদস্যদের এ সব জিনিসের কমতি না হয়। মধ্যরাতের পর বাড়িতে পা দেয়া প্রথম মানুষটি অবশ্যই সোনালি বা লাল চুলওয়ালা এবং মহিলা হতে পারবে না। এতে বাড়িতে দুর্ভাগ্য আসে। লন্ডনে নববর্ষের আগ মুহূর্তে ট্রাফালগার স্কোয়ার এবং পিকাডেলি সার্কাসে বিশাল পরিসরে মানুষ সমবেত হয়। মধ্যরাতে বিগবেনের ধ্বনি শুনে এরা একত্রে নববর্ষকে বরণ করে নেয়।

যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের নববর্ষ উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দু হয় টাইমস স্কোয়ার। এখানে নতুন বছর শুরু হওয়ার ১০ সেকেন্ড আগে এক বিশালাকার ক্রিস্টাল বল নেমে নতুন বর্ষের আগমনের কাউন্টডাউন শুরু করে। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় নিউ-ইয়ার পার্টি। এতে প্রায় ৩০ লাখ লোক অংশগ্রহণ করে।

ভারত
ভারতে সম্রাট আকবরের সময় যে নওরোজ উৎসব হতো তা সর্বভারতীয় উৎসবের মর্যাদা পায়নি। অনেকে ভারতীয় বর্ষবরণ উৎসবকে দিওয়ালি উৎসব বলে অভিহিত করেন। এটি হয় বিভিন্ন রাজ্য বা সম্প্রদায়ের নিয়ম অনুযায়ী। পাঞ্জাবে নববর্ষ উৎসব পরিচিত বৈশাখী নামে। নববর্ষে পুষ্পসজ্জা প্রায় সর্বভারতীয় রেওয়াজ, দক্ষিণ ভারতের অঞ্চলবিশেষের মজাদার খাবার ও পুষ্পাহার গুরুত্বপূর্ণ প্রথা। তবে বর্তমানে ইংরেজি নববর্ষ পালন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান।

বাংলাদেশ
বাংলাদেশে প্রধানত নববর্ষ হিসেবে পহেলা বৈশাখকে জাকজমকভাবে পালন করা হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবেও এতে পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়। তবে ১ জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষকেও পালন করা হয়। এ উৎসব অনেকটা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক পালিত হয়।

ফ্রান্স
ফ্রান্সে বছরের শেষ দিনে ঘরে থাকা সব মদ শেষ করতেই হবে। নতুন বছরে ঘরে পুরনো মদ পড়ে থাকা অশুভ। সৌভাগ্য ঘরে আসবে না। তবে ঘরে-থাকা মদ ফেলে দিলে চলবে না। খেয়েই শেষ করতে হবে৷। মদে মশগুল রাত, নতুন ভোর!

প্যারাগুয়ে
প্যারাগুয়ে বছরের শেষ পাঁচদিন তাদের ঘরে কোনো আগুন জ্বলে না। হয় না কোনো রান্না। ওই পাঁচদিনকে তারা পালন করে ‘ঠান্ডা খাবার খাওয়ার দিন’ হিসেবে। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টার পর নতুন বছরের ঘণ্টা বাজলে হেঁসেলে আগুন জ্বেলে নতুন নতুন পদ, একসঙ্গে খেয়ে নতুন বছরে পা দেন তারা।

পোল্যান্ড
পোল্যান্ডেও বর্ষবরণটা বেশ মজার। এখানকার তরুণীরা বর্ষবরণের রাতে খরগোশের মতো পোশাক পরে জড়ো হয়। এরপর খরগোশের মতো লাফিয়ে লাফিয়ে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি জোগাড় করে। তারপর ওই শাক-সবজির যতটা সম্ভব চিবিয়ে খায়! শাকসবজি খেয়ে নতুন বছরে পা দিলে নাকি নতুন বছরের দিন সুন্দর হবে।

বুলগেরিয়া
বুলগেরিয়ায় বর্ষবরণের দিন হাঁচি দেয়া বেশ মঙ্গলের। বর্ষবরণের দিন তাদের বাড়িতে আসা কোনো অতিথি যদি হাঁচি দেন, তাহলে বাড়ির কর্তা তাকে নিজের খামারে নিয়ে যান। এরপর ওই ব্যক্তির প্রথম নজর যে পশুর ওপর পড়বে, সেই পশুটি ওই ব্যক্তিকে উপহার দেয়া হয়।

হাঙ্গেরি
বছরের শেষ দিন হাঙ্গেরিবাসী হাঁস, মুরগি বা কোনো ধরনের পাখির মাংস খান না। উড়তে পারে এমন পাখির মাংস খেলে নতুন বছরে জীবন থেকে সব সৌভাগ্য উড়ে যাবে! তারা নতুন বছরে পরিচিত বা বন্ধুদের যে উপহার দেন, তাতে চিমনি পরিষ্কার করছেন এমন একজন শ্রমিকের ছবি থাকে। উপহারে এই ছবিটি থাকলে পুরনো বছরের সমস্ত দুঃখ নতুন বছরে মুছে যাবে।

ভিয়েতনাম
ভিয়েতনামের উত্তরের সংখ্যালঘু জাতি বছরের শেষদিনে প্রতিদিন জল সংগ্রহ করার জলাধারে দলবেঁধে গিয়ে মোমবাতি জ্বেলে মাটিতে মাথা ছুঁইয়ে প্রণাম করে এক কলস জল নিয়ে আসে। এরপর ওই জল দিয়ে বছরের প্রথম দিন রান্না করে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে উৎসর্গ করার পর নিজেরা খায়। বছরের প্রথম দিনে স্যুপ জাতীয় খাবার থাকে না। এছাড়া অনেকে নদী বা পুকুরে কার্প মাছ ছাড়েন।

আফ্রিকা
আফ্রিকার মাদাগাস্কারে নতুন বছর শুরুর সাতদিন আগে থেকে মাংস খাওয়া বন্ধ। বছরে প্রথম দিন বাড়িতে মুরগির মাংস রান্না হবে। প্রথমে তা খেতে দেয়া হবে বাবা-মাকে। বাবা-মাকে খেতে দেয়া হয় মুরগির লেজের দিকের অংশটা। আর ভাই-বোনদের দেয়া হয় মুরগির পা।

অস্ট্রেলিয়া
সিডনিতে নববর্ষ উপলক্ষে প্রায় ৮০ হাজার আতশবাজী ফোটানো হয় যা ১৫ লাখ লোক উপভোগ করে।

স্কটল্যান্ড
এ সময় সবাই নিজেদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে নতুন বছরের আগমনের প্রস্তুতি নেয়। এ সময় জুনিপার গাছের ডাল পোড়ানো হয়। নববর্ষের দিন যে মানুষ প্রথম বাড়িতে পা রাখে সে-ই ওই বছর বাড়ির সদস্যদের ভাগ্য নির্ধারণ করে। স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় যে নববর্ষ উৎসব হয় তা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর মধ্যে একটি। চার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের সব প্রান্ত থেকে মানুষ আসে।

রাশিয়া
গ্রান্ডাফাডার ফ্রস্ট, যে সান্টাক্লসের লালের পরিবর্তে নীল স্যুট পরে, এ দিন শিশুদের মধ্যে খেলনা বিতরণ করে।

জার্মানি
এখানে মানুষ ঠান্ডা পানির মধ্যে তরল সিসার টুকরা ঠেলে দেয়। সিসার টুকরা যে রকম আকার বানায় তা দেখে ভবিষ্যৎ নির্ণয় করা হয়। নববর্ষের আগে খাওয়া খাবারের কিছু অংশ মধ্যরাতের জন্য রেখে দেয়া হয়, যাতে করে নতুন বছর ঘরে পর্যাপ্ত খাবার থাকে।

লুনার বর্ষবরণঃ চীন
চীনা ক্যালেন্ডারকে বলা হয় লুনার ক্যালেন্ডার। লুনার ক্যালেন্ডারের প্রথম দিনটিতে চীনারা পালন করে নববর্ষ উৎসব। ১৫ দিন ধরে চলা এই উৎসব পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম প্রাচীন বর্ষবরণ উৎসব। তবে মজার বিষয় প্রতিবছর একইদিনে চীনাদের নতুন বছর শুরু হয় না। এটি নির্ভর করে আকাশে চাঁদ দেখার উপর। ২০ জানুয়ারী থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই চাঁদ দেখা যায় । একে বলা হয়, ‘উয়ান ট্যান’। ২০১৮ সালে লুনার নতুন বছর শুরু হয় ১৬ই ফেব্রুয়ারি থেকে।
চীনাদের নববর্ষ আর বসন্ত দুটোর আগমন হয় একসাথে। এজন্য এই উৎসবকে ‘বসন্ত উৎসব’ও বলা হয়ে হয়ে থাকে। অন্যদিকে চন্দ্রবর্ষের শুরুর দিনটিকে নববর্ষ হিসেবে পালন করা হয় বলে এই উৎসবকে ‘চুন জি’ ও বলা হয়ে থাকে। ধারণা করা হয় চীনে এই উৎসবের প্রচলন শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব ১৭৬৬ সালে শ্যাং ডাইনেস্টির সময় থেকে। তবে মতান্তরে এই উৎসবের শুরু আরও আগে, খ্রিস্টপূর্ব ২৩০০ সালের কোন এক সময় থেকে। ‘চীনা নববর্ষ’ গণচীনের একটি অন্যতম প্রধান উৎসব। তবে চীন ছাড়াও সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং মরিশাসে এই উৎসব ব্যাপকভাবে পালিত হয়।

জাপান
জাপানে নববর্ষের সময় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। খারাপ আত্মাকে দূরে রাখার জন্য এ সময় বাড়ির বাইরে দড়ি দিয়ে খড়ের টুকরো ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এটাকে তারা সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখে। নতুন বর্ষ শুরু হওয়ার সাথে সাথে জাপানিরা হাসা শুরু করে, এতে নতুন বছর সৌভাগ্য নিয়ে আসে।

ব্রাজিল
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো সমুদ্রসৈকতে নববর্ষের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান হয়। এর অন্যতম আকর্ষণ চোখধাঁধানো আতশবাজির প্রদর্শনী। এ দিন অনেকেই সাদা পোশাক পরে। সমুদ্রে সাতটি ডুব দিলে এবং সাতটি ফুল ছুড়ে দিয়ে তারা মনে করে বছরটি খুব ভালো কাটবে। এ উৎসবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় দুই মিলিয়ন পর্যটক যোগ দেয়।

আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনায় নববর্ষের আগের দিন রাত্রে পরিবারের সবাই একত্রে খাবার টেবিলে বসে আহার করে। ভোর পর্যন্ত চলে নানা অনুষ্ঠান। নববর্ষের প্রথম দিন নদী বা পুকুরে সাঁতার কেটে তারা নববর্ষ উদযাপন করে।

কোরিয়া
কোরিয়াতে নববর্ষ শুরুর সময় কেউ ঘুমায় না। এ সময় ঘুমালে নাকি চোখের ভ্রূ সাদা হয়ে যায়! রাত ১২টা বাজার সাথে সাথে টিভিতে ৩৩ বার ঘণ্টা বাজানো হয়। কোরিয়ার ৩৩ বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এটি করা হয়। কোরিয়াতে প্রায় সবাই সূর্যোদয় দেখে। সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ার সময় একজন আরেকজনকে শুভেচ্ছা জানায়।

মেক্সিকো
মেক্সিকোতেও ১২টা বাজার সাথে সাথে ১২ বার ঘণ্টা বাজানো হয়। এ সময় প্রতি ঘণ্টাধ্বনির সাথে একটি করে আঙুর খাওয়া হয়। তারা বিশ্বাস করে এ সময় যা কামনা করা হয়, তাই পূরণ হয়।
বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। পহেলা বৈশাখে ধর্ম, বর্ণ, বয়স নির্বিশেষে আমরা নতুন বছরকে বরণ করে নিই। অন্যদিকে সারা বিশ্বে ১লা জানুয়ারি একসাথে পালন করা হয় ইংরেজি নববর্ষ। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নববর্ষকে উদযাপন করা হয় বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন সময়ে। জানা যাক তেমন কিছু ভিন্ন বর্ষবরণের কথা।

রোশ হাশানাহঃ ইসরাইল
ইহুদীদের বর্ষবরণ উৎসবকে বলা হয় রোশ হাশানাহ। হিব্রু শব্দ ‘রোশ হাশানাহ’ এর অর্থ ‘বছরের শুরু’। ইহুদীরা বিশ্বব্যাপী সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে এই উৎসব পালন করে। ইহুদী বছরের প্রথম মাস ‘তিশরেই’ (হিব্রু ক্যালেন্ডারের ৭ম মাস) এর প্রথম ২ দিন এই উৎসব পালন করা হয়। ইহুদীরা বিশ্বাস করে বছর শুরুর এই দিনেই মানবজাতির প্রথম পুরুষ আদম এবং প্রথম নারী হাওয়াকে সৃষ্টি করা হয়েছিল। মতান্তরে এই দিনকে ধরা হয় দক্ষিন-পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার অর্থনৈতিক বছরের শুরু হিসেবে।
বর্ষবরণ উৎসবে ইহুদীদের একটি জনপ্রিয় ঐতিহ্য হল প্রার্থনার পর মধু মিশ্রিত আপেল খাওয়া। প্রাচীনকালে ইহুদীরা বিশ্বাস করত আপেলে রয়েছে রোগ নিরাময়কারী গুণাগুণ এবং মধুকে নতুন বছরের মিষ্টতার প্রতীক হিসেবে ধরা হত। কালের বিবর্তনে এই বিশ্বাসগুলোই ইহুদী বর্ষবরণের ঐতিহ্য হিসেবে প্রচলিত হয়ে গিয়েছে।

নওরোজঃ ইরান
পার্সিয়ান শব্দ ‘নওরোজ’ এর অর্থ নতুন দিন। প্রায় তিন হাজার বছর ধরে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে নববর্ষ উৎসব হিসেবে নওরোজ পালিত হয়ে আসছে। ‘নওরোজ’ মূলত ফার্সি বছরের প্রথম দিনে উদযাপন করা হয়। ইরানে উৎসবটির ব্যাপ্তিকাল মোট ১৩ দিন এবং আফগানিস্তানে ৩ দিন। এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম উৎসবের একটি। অঞ্চলভেদে উৎসবটি ইংরেজি মার্চ মাসের ২১ তারিখে অথবা এর আগেরদিন কিংবা তারপরের দিন পালন করা হয়। নওরোজের মাধ্যমে ফার্সি বছরে বসন্তকালের আগমন ঘটে। ইরান এবং আফগানিস্তান ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া, ককেশাস, কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চল এবং বলকান অঞ্চলের বেশ কিছু দেশে এই উৎসব পালন করা হয়। জাতিসংঘ ২০১০ সালে এই দিবসটিকে ‘আন্তর্জাতিক নওরোজ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

তামিল নববর্ষঃ শ্রীলঙ্কা
বাংলা নববর্ষের মতোই এপ্রিলের ১৪ তারিখ তামিল নতুন বছরকে বরণ করে নেয় শ্রীলঙ্কানরা। কথিত আছে সূর্য দেবতার আরাধনার রীতি থেকেই তামিল নববর্ষ পালনের উৎপত্তি। তবে বর্তমানে শ্রীলঙ্কানরা সূর্য দেবতার মীন রাশি থেকে মেষ রাশিতে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে এই উৎসব পালন করে থাকে। এপ্রিলের ১৪ তারিখ যখন সূর্য ঠিক মাথার উপর থাকে তখনই বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়। শ্রীলঙ্কানদের কাছে উৎসবটির আরেকটি তাৎপর্য হল এই উৎসবের মাধ্যমে নতুন ফসল ঘরে তোলার সমাপ্তি ঘটে যাকে সিংহলি ভাষায় বলা হয় ‘মহা কন্যা’।

সংক্রানঃ থাইল্যান্ড
সংক্রান থাইল্যান্ডের একটি জাতীয় উৎসব যেখানে থাই নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়। প্রতিবছর এপ্রিলের ১৩ তারিখ এই উৎসব পালন করা হয়। ধারণা করা হয় ‘সংক্রান’ নামটি ভারতের ‘মকর সংক্রান্তি’ উৎসব থেকে নেওয়া। জ্যোতিষবিদ্যা অনুযায়ী এই সময় মেষ রাশির সময়কাল শুরু হয়। উৎসবটির একটি মূল আকর্ষণ হল ‘পানি নিক্ষেপণ খেলা’। এই খেলার মাধ্যমে একে অন্যের গায়ে পানি নিক্ষেপ করে নতুন বছরে অধিক বৃষ্টির আশা করা হয়। এছাড়াও নতুন বছরে শুভকামনা এবং অগ্রগতির আশায় সকল বুদ্ধ মূর্তি ও বুদ্ধের ছবি ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করাও উৎসবটির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

সম্পাদনা:এইচআর/আরএইচ

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!