• Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

শুভ্র শরতে মুগ্ধতা ছড়ানো কাশবন

হুসাইন আরমান
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮ | সময় : ১:০৫ অপরাহ্ণ

মাথার উপর গাঢ় নীল আকাশ সাদা কাগজের মত,অমল ধবল মেঘের ভেলা ভাসে সারি সারি।নদীর দুই পাড়ে দুধেল সাদা কাশফুল ফুটে। পাগলা হাওয়ায় সেই শুভ্র কাশবনে পাখিরা আনন্দে মেতে উঠে।প্রকৃতি সাজে এক অপরূপ সাজে। তখন আমরা বুঝতে পারি সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে শরৎ এসেছে দুয়ারে।

গ্রীস্মের তাপদাহ আর বর্ষার একঘেয়ে বৃষ্টির পর মোহনীয় ঋতু শরৎ আসে।শরতের স্নিগ্ধতা মনকাড়া।ভাদ্র ও আশ্বিন মাস মিলে বাংলাদেশের তৃতীয় ঋতু শরৎ। ইংরেজীতে একে অটাম বলে।পৃথিবীর ৪টি ঋতুর প্রধান একটি হল শরৎ। উত্তর গোলার্ধে সেপ্টেম্বর মাসে এবং দক্ষিন গোলার্ধে মার্চ মাসে শরৎ আসে। এসময় রাত তাড়াতাড়ি আসে এবং আবহাওয়া ঠান্ডা হতে থাকে। এই ঋতুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য পত্রঝরা বৃেক্ষর পাতা ঝরে যাওয়া। শরতকে ঋতুরাণী বলা হয়।

ঘর্মাক্ত ক্লান্ত শরীরে গোসল করার পর যেমন ভালো লাগে,সুন্দর লাগে,ফুরফুরা লাগে, তেমনি প্রকৃতি বর্ষায় গোসল করে সতেজ হয়ে শরতের আঙ্গিনায় পা রাখে। শরতের নান্দনিক সৌন্দর্যের সূর্যোদয়, নরম রোদের সকাল। জোসনালকিত রাতের মোহনায় আকাশ দেখে মুগ্ধ হতে পারে সবাই।
শরতের আগমনী বার্তা জানান দেয় কাশফুল। নদীর পাড়ে সাদা বকের মত কাশফুলের অবারিত বন যেন শুভ্র পালক শোভিত উদ্যান। কাশফুলে যখন দক্ষিনা হাওয়া লাগে দোল খায় সুনিপুন ঢেউ তুলে। কাশ প্রায় ৫-২০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। কাশের সাদা ও রুপালি ফুল ফোটে। কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে মানুষ ভীড় করে নদীর তীরে। কাশবনের খেলা করে ঘাস ফড়িং হরেক রকম পাখি ও কীট পতঙ্গ। শীউলী, কামিনী, হাসনাহেনা, দোলনচাঁপা, বেলী, ছাতিম, রঙ্গন, টগর, জারুল, রাধাচূড়া, শ্বেতকা ন, নয়নতারা, ধুতুরা, মধুমঞ্জুরী, জিঙ্গে, জয়ন্তীমহ নানা জাতের ফুল ফোটে।

এসময় নদী, খাল-বিল টইটম্বুর হয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ঝাঁক বেঁধে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায়। বিল, ঝিল, নদীতে ফোটে বাহারী রকমের শাপলা ফুল। যেন পানির মধ্য আগুন জ্বলে। দক্ষিনা হাওয়ায় ভেসে যায় পাল তোলা নৌকা । জেলের জালে ধরা পড়ে রুপালী ইলিশ, মাঝির কণ্ঠে ভাটিয়ালী গান। এ যেন এক সুখের সমারোহ। দিগন্ত জুড়ে সাতরঙ্গা হাসিতে ফুটে ওঠে রংধনু।
মুস্তফা মনোয়ার বলেন “শরৎ হচ্ছে চমৎকার মেঘের ঋতু। স্পষ্টতার ঋতু। ”

শরতের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এসময় মাঠ ঝুড়ে থাকে সবুজের সমারোহ। ধানের কচি পাতায় জমে থাকা শিশিরের উপর প্রভাত রবি দ্যুতি ছড়ায়। কৃষকরা নবান্নের আশায় দিন গুনে।শরতের রূপ লাবণ্য দেখে মোহিত না হয়ে পারে না কেউ। তাইতো প্রকৃতির এমন রূপ বাহারে কবি সাহিত্যিকের মনোজগতে উল্লাসের সৃষ্টি হয়। শরতকে নিয়ে রচিত হয়েছে অসংখ্য গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি। কবি গুরু ও করে গেছেন শরতের বন্দনা। ‘শরত তোমার অরুন আলোর অঞ্জনী, ছড়িয়ে গেল ছাড়িয়ে গেল অঞ্জলী। কবি নজরুল লিখেন- ‘এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলী বিছানো পথে। ’
এসো ধুইয়া চরন শিশিরে এসো অরুণ কিরণ পথে’ মহাকবি কালিদাস ও তার ‘মেঘদূত’ কাব্যগ্রন্থে শরৎ বন্দনায় ছিলেন অগ্রবর্তী।
শরৎ আমাদের অবসাদগ্রস্ত মনে নতুন প্রেরণা জোগায়। হৃদয়কে রাঙিয়ে তুলে শুভ্রতার স্পর্শে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শরতকে আগের মত পাওয়া যায় না। নদীর ধারে কাশবন এখন আর তেমন আর চোখে পড়ে না। ইঞ্জিনচালিত নৌকার প্রভাবে হারিয়ে গেছে পাল তোলা নৌকা। খাল বিল বরাট হয়ে যাওয়ায় শাপলা ফুল এখন আর তেমন চোখে পড়েনা। অতিরিক্ত কিটনাশক ব্যবহারের ফলে ঝাঁকে ঝাঁকে পোনা মাছ সৃষ্টি হয় না। ঋতু বৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,অবহমান বাংলার ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। তাই আমাদের সকলকে নিয়ম মেনে পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে।
সম্পাদনা/আরএইচ/এইচআর

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!